Thursday, May 22, 2008

২২মে ২০০৮

দক্ষিণবঙ্গে সিপিএমের
জমি কাড়ল নন্দীগ্রামই

সন্দীপন চক্রবর্তী ² কলকাতা

ক্ষিণবঙ্গ বরাবরই তাদের শক্ত ঘাটিসেখানেই এ বার জাের ধাক্কা খেতে হল সিপিএমকেপূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ হাতছাড়া তাে বটেই, উত্তর ২৪ পরগনায় হারতে হারতে জেলা পরিষদ বাচানাে এবং নদিয়ায় খােদ জেলা সভাধিপতির হারবুধবার পঞ্চায়েত ভােটের ফলাফলে দক্ষিণবঙ্গের এই ছবি নিঃসেন্দহে চিন্তায় ফেলেছে প্রধান শাসকদলকে

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিনয় কােঙার সরাসরিই বলেছেন, ‘‘উত্তর ২৪ পরগনার ফল আশানুরূপ নয়পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা আমাদের আন্দাজের মধ্যে ছিল নাএটা আমাদের ত্রুটি জনসভা করেছি, প্রচারে গিয়েছিকিন্তু এর থেকে প্রমাণিত, আমাদের কিছু কর্মী জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন’’

বিনয়বাবুরা এখন যা-ই বলুন, দক্ষিণবঙ্গের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সিপিএমের জন্য ভাল ইঙ্গিত দিচ্ছিল নাজমি-আেন্দালনের জেরে নন্দীগ্রামে দল যে অস্বিস্ততে, তা স্থানীয় সিপিএম নেতারা প্রকাশ্যেই কবুল করছিলেনআবার উত্তর ২৪ পরগনায় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সমস্যা এবং সংখ্যালঘু-প্রসঙ্গ স্কুল কমিটির ভােটে সিপিএম-কে বিপাকে ফেলেছিলদক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূল-এসইউসি জােট কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল শাসক দলের সামনেএই সবকটি জেলাতেই এবং সঙ্গে সিঙ্গুরেও সিপিএম ভােটের অব্যবহিত আগে আক্রমণাত্মক প্রচারে নামিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে তবুও ভােটের পরিসংখ্যানই বলছে, সমস্যার শিকড় উখাত করা যায়নিবরং বিধানসভা তাে ছিলই না, পঞ্চায়েতেও সিঙ্গুর থেকে উখাত হয়ে গিয়েছে সিপিএম

দক্ষিণবঙ্গে সিপিএমের কাছে সব চেয়ে বড় ধাক্কা নিঃসেন্দহে পূর্ব মেদিনীপুরসিআরপি-র সঙ্গে রীতিমতাে সমানে টক্কর দিয়ে নন্দীগ্রামেভােট করানাের ঘণ্টাখানেক পরেই জােনাল কমিটির এক নেতা আত্মবিশ্বাসী গলায় বলেছিলেন, ‘‘তবে বিরােধীরা একেবারে মুছে যাবে, এমন ভাববেন না!’’ বাস্তবে নন্দীগ্রাম থেকে মুছে গেলেন তারাই! নন্দীগ্রামের প্রভাব শুধুমাত্র দুটাে ব্লকে সীমাবদ্ধ না-থেকে পুরাে জেলার দখলই দিয়ে গেল এসইউসি-তৃণমূলকে (৫৩-য় ৩৭)পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূলের অনুকূলে ফল ২০-৫ এবং নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে ১০টায় ১০টা গ্রাম পঞ্চায়েতই জিতেছে তারাবিরােধী শিবিরের মতে, গত নভেম্বরেরসূর্যােদয়এবং ভােটের আগে লাগাতার সন্ত্রাসসিপিএমের কাছে ব্যুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছেতৃণমূলের এক বিধায়কের কথায়, ‘‘আমরা বুঝেছিলাম, সন্ত্রাসের কাছে নন্দীগ্রামের মানুষ মাথা নত করবেন নাওরা বােঝেনি!’’ বিনয়বাবু অবশ্য মনে করেন না, নন্দীগ্রামই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ হাতছাড়া হওয়ার বা অন্যত্র খারাপ ফলের একমাত্রকারণ প্রসঙ্গত, তমলুকের দাের্দণ্ডপ্রতাপ সাংসদ এবং বিরােধীদের মতে, ‘নন্দীগ্রামের ভিলেনলক্ষ্মণ শেঠ তার একার ঘাড়ে হারের দায় নিতে অস্বীকার করেছেনতবে তিনি বলেছেন, ‘‘শিল্প জমি অধিগ্রহণের ব্যাপারে আরও সতর্ক ভাবে এগােতে হবে’’

সিঙ্গুর আেন্দালন থেকেও হুগলি জেলা পরিষদ ও সিঙ্গুর পঞ্চায়েত সমিতিতে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে পেরেছে বিরােধীরা যা বলছে, টাটার গাড়ি-প্রকেল্পর সুফল অন্তত ভােটবােক্স নিয়ে যেতে পারেনি সিপিএমতবে খােদ সিঙ্গুরে তৃণমূলের সংগঠন তুলনামূলক ভাবে মজবুতবিধায়কও তাদেরবিনয়বাবুও বলছেন, ‘‘সিঙ্গুরে আমাদের এমনিই দুর্বলতা আছেগত বিধানসভায় ২৩৫টা আসন জিতলেও সিঙ্গুরটা হেরেছিলাম ওখানকার যে নেতা জেলে বিন্দ (তাপসী মালিককে হত্যার অভিযােগে সুহৃদ দত্ত), তার অভাবও দুর্বলতার অন্যতম কারণ’’ সিপিএম তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা স্বীকার করে নিলেও ভােটের রায় দেখে নতুন উদ্যমে সিঙ্গুর-আেন্দালনে নামার কথা এ দিন থেকেই কিন্তু ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বেন্দ্যাপাধ্যায়

হুগলি নদীর পারে উত্তর ২৪ পরগনায় সিপিএমের সাংগঠনিক দুর্বলতা অবশ্য তেমন ছিল নাযা ছিল সেটা গােষ্ঠী-দ্বন্দ্ব এবং জমি অধিগ্রহণ ঘিরে একাংশের মানুষের আশঙ্কাদেগঙ্গায় জমি অধিগ্রহণের নােটিস নিয়ে তুলকালাম হওয়ার পরে তড়িঘড়ি আসরে নামতে হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীকে কিন্তু তাতে ক্ষয়ক্ষতি পুরাে সামাল দেওয়া যায়নিজাতীয় সড়ক চওড়া করার জন্য জমি নিতে গিয়ে সমস্যায় তা বােঝা গিয়েছিলসিপিএমের জন্য বিপদ সঙ্কেত আরও জােরালাে হয় একের পর এক স্কুল-কমিটিতে তারা হেরে যাওয়ায়সেই বিপদ সঙ্কেত সত্যিই বিপদে পরিণত হয়েছে পঞ্চায়েতের ফলাফলে, যেখানে জেলা পরিষদের মােট ৫১টি আসনের মধ্যে সিপিএম পেয়েছে ২৬টি আর বিরােধী তৃণমূল ও কংগ্রেসের ঘরে ২৪টিরাত পর্যন্ত খবর, শুধু বসিরহাট মহকুমাতেই ৭টি পঞ্চায়েত সমিতি হারিয়েছে সি পি এমগঙ্গার ওপারেও হাওড়ায় ১৪টার মধ্যে রাত পর্যন্ত ১০টি এবং বর্ধমানে ৫টি পঞ্চায়েত সমিতি খুইয়েছে তারা

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূল-এসইউসি জােট ছাড়াও শরিকি বিবাদ ছিলসন্ত্রাস নিয়ে আরএসপি-র সঙ্গে সিপিএমের দ্বন্দ্ব তীব্র আকার নিয়েছিলহাওয়া অন্য রকমবুঝে মঙ্গলবার রাতে আলিমুিদ্দনে ডেকে পাঠানাে হয় রাজ্য কমিটির সদস্য রেজ্জাক মােল্লা জেলা সম্পাদক শািন্ত ভট্টাচার্যকে তখনও তারা কিছু আন্দাজ করতে পারেননি! এ দিন দেখা গিয়েছে, ৭৩টির মধ্যে তৃণমূল ৩৪ এবং কংগ্রেস ৩টি আসন পেয়ে জেলা পরিষদ কেড়ে নিয়েছে

নদিয়ার দিকে রাজনৈতিক মহলের নজর তেমন ছিল নাঅথচ সেখানেই পরাস্ত সভাধিপতি রমা বিশ্বাস এ বছরই রমাকে রাজ্য কমিটিতে নিয়ে আসা হয়েছিলতার হারে স্বভাবতই অস্বিস্ততে আলিমুিদ্দন নদিয়ায় জেলা পরিষদে বিরােধীরা যেমন ১১টি আসন ঘরে তুলেছে, তেমনই পঞ্চায়েত সমিতিতে ১৭টির মধ্যে সিপিএম পেয়েছে মাত্র ২টি! এই জেলায় গােষ্ঠী দ্বন্দ্ব অবশ্য আগে থেকেই প্রবল ছিল যার জন্য রাজ্য সেম্মলনের পরেও জেলা সম্পাদকমণ্ডলী গঠন করা যায়নি

তবে খারাপ ফলের জন্য সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্ব অনেক বেশি দায়ী করছেন বামফ্রেন্টর মধ্যে রাজনৈতিক অনৈক্যকেবিনয়বাবু যেমন বলেছেন, ‘‘আগে কয়েকটা আসনের জন্য অনৈক্য হতএ বার ছিল রাজনৈতিক অনৈক্য, কিছু বামপন্থী মানুষকে সেটা প্রভাবিত করেছে’’ শরিক মহল থেকে আরএসপি-র মনােজ ভট্টাচার্য বলেছেন, যা ঘটেছে, তার জন্য সিপিএমের আচরণের ঔদ্ধত্য দায়ীসিপিআই নেতা ও মন্ত্রী নন্দগােপাল ভট্টাচার্যেরও মত, সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম-সহ নানা বিষয়ে শরিকদের মতামতকে গুরুত্ব না-দেওয়ার ফল ফলেছে পঞ্চায়েতে বস্তুত, সিপিএমের নির্বাচন-পরবর্তী সন্ত্রাসের প্রতিবাদে আজ, বৃহস্পতিবার নানুরে বন্‌্‌ধ ডেকেছে আরএসপি, সমর্থন করেছে ফরওয়ার্ড ব্লক

এই পরিিস্থতিতে নতুন করে আশাবাদী হচ্ছেন দুজন প্রথম জনমমতাতিনি বলছেন, ‘‘মানুষের উপরে আস্থা রাখলে এত সন্ত্রাসের মধ্যেও যে ঘুরে দাড়ানাে যায়, প্রমাণ হয়ে গেলপূর্ব মেদিনীপুর আমার প্রাণ-মন ভরিয়ে দিয়েছে!’’ অন্য জন, সিিদ্দকুল্লা চৗেধুরী বলছেন, ‘‘সিপিএমের একশােটা ভােটের ৬৫টা সংখ্যালঘু, ৩০টা গরিব মানুষের, বাকি পাচটা অন্যান্যসাচার কমিটির সুপারিশ পেয়েও সিপিএম কিছু করতে চায়নিওই ৬৫টা ভােটের ২০-২৫টা এ বার এ দিকে চলে এসেছে!’’

শিল্পায়ন প্রক্রিয়া থমকাবে কি, বড় প্রশ্ন সেটাই

অনিন্দ্য জানা ² কলকাতা

খুশি মমতা

বিষণ্ণ বিনয়

দুর্গে বড়সড় ফাটল ধরলকিন্তু রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে সামগ্রিক ভাবে তাদের আধিপত্য বজায় রাখল সিপিএম

}SMj©} 17Cm Pj~S wA}ÇMt} {Mu© 13CmMrZ AjMrMi yS{ফ্রন্ট আবার পাশাপাশিই গতবারের ১৫টি জেলার মধ্যে এ বার তারা দুটিতে অপ্রত্যাশিত ভাবে ক্ষমতা হারিয়েছেপুনরুদ্ধার করেছে মুর্শিদাবাদজিততে পারেনি মালদহহারিয়েছে উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরএর মধ্যে উত্তর দিনাজপুরে হার সিপিএমের কাছে কিছুটা প্রত্যাশিত হলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ফলাফল তাদের কাছে পুরােপুরি আশ্চর্যের! যাকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিনয় কােঙার বর্ণনা করলেন, ‘‘সকাল ৮টার আগে পর্যন্ত জানতাম, দুটােতেই জিতছি!’’

P| rÏq{Û~ er P~ScÉzS PzSMm c{Mr c{Mr _cCm YÉMv PnMcAi~, AyuSvÉzSÜ প্রায় টিমটিম করে বিরােধী দল হয়ে জ্বলছিল, তাদের কাছেই দক্ষিণবঙ্গে দুটি জেলা পরিষদ হেরেছে সিপিএম! হারিয়েছে ও ক্রমাগত হারাচ্ছে বেশ কিছু পঞ্চায়েত সমিতিওএক বছরের মধ্যেই দেশে লােকসভা ভােটএবং পঞ্চায়েতের এই ফলাফলের প্রভাব লােকসভায় পড়ার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দিচ্ছে না সিপিএমদলের নেতাদের আশঙ্কা, এই পঞ্চায়েতে বিরােধীরা যে নেতিবাচকভােটে জিতেছেন, আগামী দিনে তা বিরােধীদের পক্ষে নাইতিবাচকভােটে বদলে যায়!

wঞ্চায়েতের এই ফলাফলে কি পিশ্চমবঙ্গে সামগ্রিক শিল্পায়ন প্রক্রিয়াই ধাক্কা খেল?

{Úd©{ন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এ নিয়ে বুধবার কােনও মন্তব্য করতে চাননিপঞ্চায়েতের ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি প্রবীণ নেতা জ্যােতি বসুওদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিনয়বাবু অবশ্য জাের গলায় বলেছেন, ‘‘এর ফলে শিল্পায়ন থমকে যাবে, এমন মনে করার কােনও কারণ নেই’’ সিপিএমের নেতারা প্রকাশ্যে জাের গলায় যা-ই বলুন না কেন, উত্তর হলহ্যাবিশেষত নন্দীগ্রাম সহ পূর্ব মেদিনীপুরের অভাবনীয় ফলাফলেসিপিএমের এক শীর্ষনেতার মতে, ‘‘পঞ্চায়েত নির্বাচনের বুধবারের রায় এই সঙ্কেত খুব স্পষ্ট ভাবে পাঠিয়েছে যে, শিেল্পর জন্য জমি অধিগ্রহণ ভােটের বিষয়না-হলে সিপিএমকে হারানাে যাবে না আবার শিেল্পর জন্য জমি না-নিলে পিছিয়ে পড়বে রাজ্যসামগ্রিক ভাবে অবস্থাটা অতএব, এ রাজ্যে হয় সিপিএম হারবে, নয় পিশ্চমবঙ্গ!’’

Pcv ÅSÉMc} _Z Xপ্রত্যাশিত হার?

AÉAw_{ PvrSMt} প্রাথমিক ময়নাতদেন্ত যে কারণ উঠে এসেছে, তার মােদ্দা কথাদক্ষিণবঙ্গে নেতিবাচক ভােটেই হারতে হয়েছে সিপিএমকেযার মূলে শিেল্পর জন্য জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সাম্প্রতিক চড়া বিতর্ক এবং সংখ্যালঘুদের অবস্থা নিয়ে সাচার কমিটির নেতিবাচক রিপাের্টসংখ্যালঘু মুসলিমদের থেকে বেছে বেছে জমি নেওয়া হচ্ছেএই প্রচারের মােকাবিলাও সে ভাবে করা যায়নিদলের এক সংখ্যালঘু নেতার কথায়, ‘‘সাচার কমিটির রিপাের্ট চূড়ান্ত নেতিবাচক হওয়ার ফলে সংখ্যালঘুরা আমাদের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেনসাচার রিপাের্ট ইতিবাচক হলে হয়তাে ফলাফল এতটা খারাপ হত না’’

_} ÉMòZ }MÜMi jA{ XAuéÑq AyrcÕ¥ AÉòÁ}-vন্দীগ্রামে কার্যত মুছে গিয়েছে শাসক দলতবে নন্দীগ্রাম-ফ্যাক্টর যেমন নন্দীগ্রামের দুটি ব্লক ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে গােটা পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়, তেমনই তা কিন্তু রাজ্যের অন্য সব জেলায় (বিশেষত উত্তরবঙ্গে) তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনিজমি অধিগ্রহণ বিতর্কের জেরেই উত্তর ২৪ পরগনায় বড়সড় ধাক্কা খেতে হয়েছে সিপিএমকেজেলা পরিষদ পেলেও নদিয়া এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে সিপিএমের সভাধিপতিরা হেরেছেন জেলা পরিষদে তৃণমূলের আসন বেড়েছে ১০২টিকংগ্রেসের ৩১টিদক্ষিণ ২৪ পরগনায় জমি বিতর্ক বা সংখ্যালঘু সমস্যা ততটা কাজ করেনি বলেই অবশ্য জেলার সিপিএম নেতাদের দাবিবরং পঞ্চায়েতের দুর্নীতি ও স্বজনপােষণই হারের মূল কারণ বলে জানাচ্ছেন তারাতবে জমি অধিগ্রহণ বিতর্কের আচ যে একেবারেই সেখানে লাগেনি, তা-ও নয়

AyM}SuH}S _cMjSm ÑM~ Ac AÉAw_{ Y}a PycSÜtSÜ wÖr?

Pj~S wA}ÇMt} x~Sx~ y~Mi, |S} P|dSMv PjS}, PÉ PÉdSMv Éx~ ÑMÜMi¥ rSMr PjSMm} প্রভাব খুব বেশি পড়েনিকিন্তু ভিন্ন তত্ত্ব বলছে, ‘ঐক্যআছে জেনে লড়াই করলে তা আরও জােরদার হতে পারতহয়ত আরও কিছু জেলা পরিষদে বেকায়দায় পড়ত সিপিএম

cংগ্রেসে আক্য না-হওয়াতেই অধীর-ফ্যাক্টরসেত্ত্বও মুর্শিদাবাদ পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে সিপিএমকিন্তু মালদহ কংগ্রেসের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে পারেনিগনি খান না-থাকলেও শেষ দিকে তার পরিবারের সঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি িপ্রয়রঞ্জন দাশমুিন্সর বােঝাপড়া এবং অবিশ্রান্ত প্রচার মালদহে উতরে দিয়েছে কংগ্রেসকে

\§} AtvSjwÚM} ÑSM}} tSÜ ‘ফ্রেন্টর মধ্যে রাজনৈতিক অনৈক্য’-এর উপর চাপিয়ে দিলেও রাজনৈতিক মহলের মতে, ওই জেলায় সিপিএমের হারের আসল কারণ দীপা-ম্যাজিক’! ভােটের আগে থেকেই িপ্রয়রঞ্জন দাশমুিন্সর স্ত্রী দীপা দাশমুিন্সকে নিয়ে চিিন্তত ছিল সিপিএম যে ভাবে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে জনসংযােগহাতিয়ার করে জেলা পরিষদ দখল করলেন দীপা, তা রাজ্য-রাজনীতিতে সম্ভবত এক নতুন তারকার জন্ম দিল! এর মধ্যেই অবশ্য শরিকি বিবাদ সামলে কােচবিহার জেলা পরিষদ পেয়েছে বামফ্রন্ট

rMy wÛyñ P{AtvHwÚM}} x~SxM~ ZAr{Mu©Z |Msষ্ট চিন্তায় সিপিএমশিল্পায়ন নিয়ে যে আগ্রাসী মনােভাব তারা নিয়েছিল, এর ফলে তা ধাক্কা খেতে বাধ্য

AyvÜySyÚ XyÅ© PjS} AtMÜ yM~Miv, ‘‘{Mv cA} vS AÅল্পনীতির জন্য এই ফল হয়েছেবামফ্রেন্টর মধ্যে এ বার রাজনৈতিক ঐক্য ছিল নাশিল্পায়নের পক্ষে আমরাএ থেকে সরে আসার কােনও কারণ নেই’’ তার আরও বক্তব্য, ‘‘কৃষকের প্রতি আমাদের েস্নহ আছেমমতা আছেকৃষকের স্বার্থেই আমাদের শিল্পায়ন দরকারপিছিয়ে আসার কােনও কারণ নেই’’

jA{ AyrMcÕ rS>Mt} _Z w}SjMÜ {{rS yMন্দ্যাপাধ্যায় যে আবার উদ্বুদ্ধ হয়ে ময়দানে নামবেন, তা-ও বিলক্ষণ বুঝতে পারছে সিপিএমপূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের জয়ের অন্যতম কাণ্ডারীবিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী যেমন বলেছেন, ‘‘গেওখালির জাহাজ নির্মাণ কারখানার জন্য অনিচ্ছুক কৃষকদের কাছ থেকে বুদ্ধবাবুকে জমি নিতে দেব নানন্দীগ্রামের ধাচেই প্রতিবাদ আেন্দালন করব’’ বরাবরের মতােই তারা শিল্পায়নের বিরােধী নন বলে মমতাও বলেছেন, ‘‘আমরা অনিচ্ছুক কৃষকের জমি কেড়ে শিল্প গড়ার বিরােধীএখনও বলছি, টাটার কারখানার জন্য নেওয়া অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দিক রাজ্য সরকার!’’ এইখানেই অশনি সঙ্কেত দেখছেন সিপিএম নেতারাআপাতত লােকসভা ভােট পর্যন্ত শিল্পায়ন প্রক্রিয়া স্থগিত থাকুক, এমনই রায় কিছু নেতারআবার অন্য অংশের মতে, তা হলে নীতির প্রেশ্ন পিছিয়ে আসতে হয়আগামী ২৪ এবং ২৫ তারিখ সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলােচনা হওয়ার কথা

Acন্তু সিপিএম নেতারা এটাও স্বীকার করছেন যে, শিল্পায়ন এবং জমি অধিগ্রহণ নিয়ে তারা তাদের বক্তব্য সঠিক ভাবেমানুষের কাছে নিয়ে যেতে পারেননিবিনয়বাবুর কথায়, ‘‘বাহ্যিক ভাবে আমরা মানুষের মন বুঝতে ব্যর্থ হয়েছি!’’

_Z }Sস্তা ধরেই আসছে সাংগঠনিক বিচ্যুতি প্রসঙ্গ কারণ, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে নন্দীগ্রামে চূড়ান্ত বিতর্কের পাশাপাশিই পিশ্চম মেদিনীপুর, বর্ধমান, পুরুলিয়া-সহ কয়েকটি জেলায় জমি নেওয়া হয়েছেসেখানে কিন্তু প্রত্যাশিত ভাল ফল করেছে সিপিএমতার কারণ হিসেবে নেতাদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রথমত, ওই জেলাগুলিতে তুলনায় অনুর্বর কৃষিজমিতে শিল্প গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

Aদ্বতীয়ত, সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষকে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সামিল করা হয়েছেএ দিন বিপর্যয়ের পর সিপিএমের রাজ্য কমিটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে, ‘পূর্ণাঙ্গ পর্যালােচনা হবেরাজনৈতিক-সাংগঠনিক বিষয় যেমন থাকবে, তার সঙ্গে পঞ্চায়েত পরিচালনার পদ্ধতি, জনগণকে যুক্ত করার অভিজ্ঞতা, কর্মসূচি রূপায়ণে ত্রুটি-দুর্বলতাও এর আওতায় আসবে

AÉAw_M{} Éংগঠনেরমিথভেঙে যাওয়ার প্রক্রিয়া কি শুরু হয়ে গেল?

জেলা পরিষদ

n নন্দীগ্রাম-হলদিয়ার সব আসনে হার সিপিএমের
n সিঙ্গুরেও হার সিপিএমের
n আরএসপির কাছে বাসন্তী হাতছাড়া সিপিএমের
n
উত্তর ২৪ পরগনায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
n মালদহে কংগ্রেস নিরঙ্কুশ
n নদিয়া ও দুই দিনাজপুরে জেলা সভাধিপতির হার

মােট জেলা পরিষদ ১৭ বামফ্রন্ট ১৩ কংগ্রেস ২ তৃণমূল জােট ২

তৃণমূল জােটের প্রািপ্ত
দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর
মােট আসন বাড়ল ১০২

কংগ্রেসের প্রািপ্ত
উত্তর দিনাজপুর
মােট আসন বাড়ল ৩১

ySM{Mt} wÚvরুদ্ধার
মুর্শিদাবাদ

জেলা পরিষদ

মােট আসন ৭৪৮

বামফ্রন্ট ৫১৭
তৃণমূল ১২০
কংগ্রেস ৯৯
বিজেপি
অন্যান্য ১০

২০০৩ এর ফল

মােট আসন ৭১৪
বামফ্রন্ট ৬১১
কংগ্রেস ৬৮
তৃণমূল ১৮
বিজেপি ০৩
অন্য ১৪

২০০৮
জেলাভিত্তিক ফল

কােচবিহার ২৯
বামফ্রন্ট ২৭
কংগ্রেস ০১
তৃণমূল ০১

দক্ষিণ দিনাজপুর ১৭
বামফ্রন্ট ১৫
কংগ্রেস ০১
তৃণমূল ০১

জলপাইগুড়ি ৩৪
বামফ্রন্ট ৩২
কংগ্রেস ০২

উত্তর দিনাজপুর ২৪
বামফ্রন্ট ০৮
কংগ্রেস ১৬

মালদহ ৩৪
বামফ্রন্ট ১৪
কংগ্রেস ১৮
বিজেপি ০১
অন্য ০১

মুর্শিদাবাদ ৬৩
বামফ্রন্ট ৩২
কংগ্রেস ৩১

নদিয়া ৪৫
বামফ্রন্ট ৩৪
কংগ্রেস ০৫
তৃণমূল ০৬

উত্তর ২৪ পরগনা ৫১
বামফ্রন্ট ২৭
কংগ্রেস ০৮
তৃণমূল ১৬

দক্ষিণ ২৪ পরগনা ৭৩
বামফ্রন্ট ৩১
কংগ্রেস ০৩
তৃণমূল ৩৪
অন্য ০৫

হুগলি ৪৭
বামফ্রন্ট ৩৬
তৃণমূল ১১

হাওড়া ৩৬
বামফ্রন্ট ২৫
কংগ্রেস ০১
তৃণমূল ১০

পিশ্চম মেদিনীপুর ৬২
বামফ্রন্ট ৫৭
তৃণমূল ০৩
অন্য ০২

পূর্ব মেদিনীপুর ৫৩
বামফ্রন্ট ১৭
তৃণমূল ৩৫
অন্য ০১

বর্ধমান ৬৭
বামফ্রন্ট ৬৪
কংগ্রেস ০১
তৃণমূল ০২

পুরুলিয়া ৩৫

বামফ্রন্ট ৩০
কংগ্রেস ০৫

বীরভূম ৩৫

বামফ্রন্ট ২৬
কংগ্রেস ০৭
তৃণমূল ০১
বিজেপি ০১

বাকুড়া ৪৩

বামফ্রন্ট ৪২
অন্য ০১

মাওবাদী এলাকাতেও অটুট সিপিএমের দুর্গ

নিজস্ব প্রতিবেদন

ঞ্চায়েত নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছিল মাওবাদীরাতা সেত্ত্বও পুরুলিয়া, বাকুড়া ও পিশ্চম মেদিনীপুরের বেশির ভাগ মাওবাদী উপদ্রুত জায়গায় ৮০ শতাংশের বেশি ভােট পড়ে

বুধবার ফল বেরনাের পরে পরিষ্কার, বেশির ভাগ জায়গাতেই হইহই করে জিতেছে সিপিএমতবে তার অনেকটাই যে বিরােধী জােট না-হওয়ার কারণে, তা নিয়ে কােনও সেন্দহ নেই

গত এক বছরে বাকুড়ায় তেমন কিছু না-ঘটলেও পিশ্চম মেদিনীপুরের বেলপাহাড়ি, লালগড় এবং পুরুলিয়ার বলরমাপুর, আড়শা, বরাবাজার, বােন্দায়ানে পরপর হামলা হয়েছেগত ১১ মে, ভােটের দিন বিকেলেই বােন্দায়ানের শিরকা গ্রামের বুথের কাছে ল্যাণ্ডমাইন বিেস্ফারণে উড়ে যায় বিএসএফের গাড়িনিহত হন এক জওয়ানএর পরেই ভােট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে ভােটদানের হার ৫০ শতাংশও ছােয়নিবাকি সর্বত্রই কিন্তু বিপুল ভােট পড়েছিল

মাওবাদীরা নির্বাচন বয়কটের ডাক দেওয়ার পরে শেষমেশ কত ভােট পড়বে তা নিয়ে ওই সব এলাকার সিপিএম নেতারাই সিন্দহান ছিলেনবিপুল ভােট পড়ার পরে তারা আশ্বস্ত হন তবে মাওবাদীদের নির্দেশেপ্রচুর ভােট বিরােধীদের ঝুলিতে ফেলা হয়েছে কি না, সেই সেন্দহও ছিল অনেকেরএখন কিন্তু একটা জিনিস স্পষ্ট তা হল, উপদ্রুত এলাকার বাসিন্দারা যে যাকেই সমর্থন করুন, একের পর এক হামলার পরেও তারা ভােট বয়কট করতে চাননিএবং মূলত ত্রিমুখী প্রতিদ্বিন্দ্বতার সৗেজন্যে লাভের গুড় সিপিএমের পাতে গিয়েছে

পিশ্চম মেদিনীপুর জেলা পরিষদে লালগড়ের দুটি আসন সিপিএমেরই দখলে ছিলএ বারও তাইঅন্য দিকে বেলপাহাড়ির দুটি আসনের মধ্যে একটি তারা জেকেপি (এন)-র হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেঝাড়খণ্ড পার্টি (নরেন)-এর হাতে থাকা বেলপাহাড়ি পঞ্চায়েত সমিতিতেও ২৬টির মধ্যে ১৪টি আসন জিতে ১০ বছর পরে ক্ষমতা ফিরে পেতে চলেছে সিপিএম লালগড় পঞ্চায়েত সমিতিতে অবশ্য তারা ২৪টি আসনের মধ্যে ১১টি আসন পেয়েছেঝাড়খণ্ড পার্টি (আদিত্য)-সহ বিরােধীদেরই সেখানে বাের্ড গড়ার সম্ভাবনা

পুরুলিয়া জেলা পরিষদে বােন্দায়ানের একটি এবং বরাবাজারের দুটি আসন দখলে রেখেছে সিপিএমও দিকে বলরামপুরের দুটি এবং আড়শার দুটি জেলা পরিষদ আসনও তাদের হাতেই রয়েছেবলরামপুর পঞ্চায়েত সমিতিও ধরে রেখেছে সিপিএমগত এক মাসে বলরামপুর, লাগােয়া বরাবাজার এবং আড়শাতেই সিপিএম নেতা-কমর্ীদের উপরে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ চালিয়েছে মাওবাদীরাবাকুড়া জেলা পরিষদে রাইপুরের দুটি আসনের একটি সিপিএমের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে জেকেপি (আদিত্য)তবে রানিবাধের দুটি আসনই দখল করেছে সিপিএমএর মধ্যে একটি আসন গত বার তৃণমূলের দখলে ছিলসারেঙ্গার দুটি আসনও সিপিএমই পেয়েছেতবে এই সব আসনেই জেকেপি (আদিত্য) তৃণমূলের ভােট কেটেছেরাইপুর, রানিবাধ ও সারেঙ্গা, তিন পঞ্চায়েত সমিতিই সিপিএমের দখলে গিয়েছেরাইপুর এবং বােন্দায়ান পঞ্চায়েত সমিতিতে অবশ্য বিরােধীরা ভাল লড়াই দিয়েছে

সীমান্ত উন্নয়নে বরাদ্দ অর্থ ব্যয়ে
সতর্ক হতে নির্দেশিকা কেেন্দ্রর

সুপ্রকাশ চক্রবর্তী ² কলকাতা

সীমান্ত এলাকা উন্নয়ন প্রকেল্প (বিএডিপি) বরাদ্দ অনুদান কােন খাতে খরচ করা যাবে, আর কােন খাতে যাবে না, সে ব্যাপারে এ বার সুস্পষ্ট নীতি-নির্দেশ জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার

কেন্দ্র ওই প্রকেল্প দেশের ১৭টি রাজ্যকে তাদের আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন মােট ৯৪টি জেলার ৩৫৯টি ব্লকে উন্নয়নের কাজ চালাতে বিশেষ অর্থ বরাদ্দ করে এক-একটা রাজ্য এতে কােটি কােটি টাকা পায়যেমন, ২০০৭-০৮ আর্থিক বছরে পিশ্চমবঙ্গের জন্য ওই প্রকেল্প কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ছিল ৮০ কােটি টাকাকিন্তু রাজ্যগুলি এত টাকা পেলেও পুরােটার সদ্ব্যবহার যে হয় না, কেেন্দ্রর সর্বশেষ নির্দেশে সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট

তাই এ বার, অর্থা ২০০৮-০৯ আর্থিক বছর থেকে বিএডিপি-র টাকা যাতে ভেবেচিেন্ত খরচ করা হয়, রাজ্যগুলিকে সে সম্পর্কে আগাম সতর্ক করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দিিল্ল পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, সীমান্ত এলাকা উন্নয়ন প্রকেল্পর উেদ্দশ্য হল, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতাে সীমান্ত এলাকাগুলিরও উন্নতিসাধনসে জন্য শহর ও গেঞ্জর সঙ্গে যােগাযােগের স্বার্থে সবচেয়ে জরুরি সীমান্ত-সড়ক তৈরি, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণনিজস্ব ক্ষমতায় স্থানীয় ভাবে বিদ্যুপাদনের পরিকাঠামাে গড়ে তােলাও সমান জরুরি কারণ, রাস্তাঘাট ও বিদ্যুতের সুব্যবস্থা থাকলে সীমান্ত অঞ্চলে পর্যটন প্রসারের সম্ভাবনা বাড়বে বেসরকারি বিনিয়ােগও আসতে পারেফলে স্থানীয় মানুষের জীবিকানির্বাহের সুযােগ বাড়বে

এবং এই সব সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে কেেন্দ্রর সুপারিশ: কােনও একটি গ্রামের উন্নতির জন্য ছােট ছােট যে সব কর্মসূচি নিতে হয়, সেগুলাের দায়িত্ব নিক রাজ্য সরকাররাজ্যের নিজস্ব বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকেল্পর মাধ্যমে সে চাহিদা পূরণ করা হােকআর সীমান্ত এলাকা উন্নয়ন প্রকেল্প করা হােক বড় ধরনের উন্নয়নমূলক কাজকর্ম

কেেন্দ্রর নির্দেশ মােতাবেক বিএডিপি-র টাকায় যে সব কাজ করা যাবে না, সেগুলি হল:
l স্কুলের পােশাক বা বই কিনে দেওয়া
l বয়স্ক শিক্ষা
l টিভি বা ডিশ অ্যােন্টনা বসানাে
l চক্ষু চিকিসা বা রক্তদান শিবির
l পুকুরের মাটি কাটা বা পুকুরের ধারে দেওয়াল তােলা
l ছােটখাটাে ইটের রাস্তা নির্মাণ
l নর্দমা তৈরি
l অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র তৈরি ইত্যাদি

অন্য দিকে বিএডিপি-র টাকায় যে সব কাজ করা যাবে, সেগুলি হল:
l প্রাথমিক, মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল তৈরি
l গ্রন্থাগার, পাঠাগার, খেলার মাঠ, মিনি েস্টডিয়াম তৈরি
l প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ থেকে শুরু করে এক্স-রে, ইসিজি মেশিন কেনা
l পশুপালন, ডেয়ারি, স্যচাষ, রেশমচাষ, পােলিট্র কারবারে সাহায্য
l পর্যটনকেন্দ্র তৈরি
l হস্তচালিত তাত, হাতের কাজ, আসবাবপত্র ও গ্রামের প্রয়ােজনীয় ছােটখাটাে ব্যবসা চালু করতে সাহায্যদান প্রভৃতি

দিনহাটায় খাতা খুলল তৃণমূল

নমিতেশ ঘােষ ² দিনহাটা

বিগত বিধানসভা নির্বাচনে ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থীকে হারিয়ে চমক দিলেও অনেকেই মনে করেছিলেন বাম শরিকদের কােন্দলের সুযােগে জেলায় খাতা খুলতে পেরেছে তৃণমূল কংগ্রেস দিনহাটায় তাদের যে সাংগঠনিক শক্তি বেড়েছে সেটা এ বার জেলা পরিষদেও প্রতিনিধি পাঠিয়ে প্রমাণ করে দিলেন কােচবিহারের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারাবুধবার পঞ্চায়েত ভােটের গণনায় দিনহাটার বুড়িরহাট এলাকার জেলা পরিষদ আসনে জয়ী হলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শেফালি বর্মনতিনি সি পি এমের দিনহাটার হেভিওয়েট নেতা তারাপদ বর্মনকে ১৫৫০ ভােটে হারিয়েছেনতারাপদবাবু সি পি এমের দিনহাটা জােনাল কমিটির সম্পাদক বিগত বিধানসভায় ফরওয়ার্ড ব্লকের কাছ থেকে সিতাই কেন্দ্র ছিনিয়ে নেওয়ার পরে ওকরাবাড়ি এলাকার জেলা পরিষদ আসনে জয়ী হয়েছেন কংগ্রেসের মজিবর রহমানতিনি ফরওয়ার্ড ব্লকের দেবনারায়ণ কালােয়ারকে ১৪ হাজার ১০৫ ভােটে হারিয়ে দিয়েছেনমহকুমার ৮টি জেলা পরিষদ আসনের মধ্যে ফরওয়ার্ড ব্লক বাকি ৫টি এবং একটি সি পি এম দখল করেছেকােচবিহার জেলা পরিষদ এ বারও বামেরা দখলে রাখতে পারলেও দিনহাটার এই ফলাফলে রীতিমতাে চমকে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলনির্বাচনের আগে বাম ঐক্য নিয়ে সি পি এম এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের মধ্যে কােন্দল চরম আকার নিলেও শেষ পর্যন্ত জেলা পরিষদ স্তরে দুই দলের মধ্যে ঐক্য হয়কেবল ভেটাগুড়ি এলাকার দুটি আসনে কােনও ঐক্য হয়নিযে দুটি আসনে এদিন সি পি এম এবং ফরওয়ার্ড ব্লক হারল সেখানে ঐক্য হয়েছিলতার পরেও এই পরাজয়ের পিছনে রাজনৈতিক মহলের অনুমান, শরিকি কােন্দলের সুযােগ নিয়ে দিনহাটায় কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস দুই দলই সংগঠনকে বাড়িয়ে নিয়েছেপাশাপাশি নিচু স্তরে দুই দলই কংগ্রেস অথবা তৃণমূল স্তরে সমঝােতা করতে গিয়ে নিজেদের বিপদ ডেকে এনেছেবুড়িরহাট এলাকায় যেমন এলাকার প্রভাবশালী সি পি এম নেতা বীরেন রায় গােষ্ঠী দ্বেন্দ্বর জেরে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ফরওয়ার্ড ব্লকে যােগ দেনতাতে সি পি এম কিছুটা হলেও দূর্বল হয়ে পড়েকিন্তু গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতি স্তরে লড়াইয়ে নেমে তলে তলে ফরওয়ার্ড ব্লক নেতাদের তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জােট আখেরে জেলা পরিষদ আসনে সি পি এমকে বিপাকে ফেলে দেয়তারাপদবাবু অবশ্য এসব বিেশ্লষণে এখনই আগ্রহী ননতার বিনীত জবাব, ‘‘মানুষ আমাদের পছন্দ না-করাতেই হেরেছিঅন্য কােনও কারণ নিয়ে আপাতত ভাবছি না’’ জয়ী তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শেফালি বর্মন বলেছেন, ‘‘মানুষ আমায় চেয়েছে তাই জিতেছি’’ দিনহাটার রাজনৈতিক মহলেও ধারণা, ঠিক যে কারণে তৃণমূল কংগ্রেস জেলা পরিষদ স্তরে জিতেছে, কংগ্রেসের প্রার্র্থীরও সেটাই জেতার কারণএকটা সময়ে সিতাইয়ের এই এলাকা কংগ্রেসের দখলেই ছিলপরে গােষ্ঠীদ্বেন্দ্ব এই এলাকায় কংগ্রেসের সংগঠন দূর্বল হয়ে পড়ে ফরওয়ার্ড ব্লক এলাকার রাজনীতির দখল নেয়পরে সিতাইয়ের কংগ্রেস নেতা ফজলে হক বিগত বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংগঠন তৈরির চেষ্টা করেনএকই সময়ে পঞ্চায়েতের ক্ষমতার ভাগ নিয়ে গীতালদহ, ওকরাবাড়ি, আটিয়াবাড়ি এলাকায় সি পি এম এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের নিত্য কলহ আখেরে কংগ্রেসের পক্ষে যায়ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা উদয়ন গুহ অবশ্য মনে করেন, এ বার পঞ্চায়েত নির্বাচনে তার দল ভালই ফল করেছেতিনি বলেন, ‘‘একটি আসনে আমরা দুর্বল ছিলাম বলে হেরেছিসার্বিক ফলে আমরা খুশি’’

উত্তর দিনাজপুর...

হেঁশেলে ঢুকে পড়েই মন জয় করলেন বৗেদি

নিজস্ব প্রতিবেদন

ভােট কুড়ােনাের চির চেনা রাস্তা ছেড়ে হেঁসেলে পৗেছে গিয়েছিলেন, মাসের পর মাস পার্টিকমর্ী ও জনতার সুখে-দুঃখে সামিল হয়েছিলেন বৗেদি প্রতিদানে তারাই উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদ তুলে দিলেনবৗেদিরহাতে

বৗেদি আর কেউ নন, দীপা দাশমুিন্স,

গােয়ালপােখরের কংগ্রেস বিধায়কএখন তিনি আর শুধু িপ্রয়রঞ্জন দাশমুিন্সর ঘরণীর পরিচয়ে আটকে নেইবিধায়ক আগেই হয়েছিলেনএ বার উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদ দখলের মধ্য দিয়ে পিশ্চমবঙ্গের রাজনীতির আঙিনায় প্রবল ভাবে উঠে এলেন

দীপার রাজনৈতিক ভঙ্গি কিন্তু মমতা বেন্দ্যাপাধ্যায় থেকে সম্পূর্ণ ভিন্নমমতা যেখানে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, দীপার সুর অনেক নীচু তারে বাধা, কিন্তু দৃঢ় তাই ফল বের হওয়ার পরে বুধবার দুপুর থেকে রাত অবধি যেখানেই গিয়েছেন দীপা, উপচে পড়েছে ভিড়ইসলামপুর থেকে গােয়ালপােখর, সেখান থেকে রায়গঞ্জসর্বত্রই তাকে বলতে শােনা গিয়েছে, ‘‘এর সব কৃতিত্বই আপনাদের প্রাপ্য পুরােপুরি আপনাদেরআপনারাই জেলা পরিষদ চালাবেনআমরা সাহায্য করব’’

গােড়া থেকে ঠিক এমনই নমনীয় ভঙ্গিমায় দীপাকে দেখছে গােটা উত্তর দিনাজপুরদিিল্ল-কলকাতা কিংবা কালিয়াগেঞ্জর বাড়ি ছেড়ে ইসলামপুরের তস্য গ্রাম কানকিতে একটি ছােট্ট বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানেই ঘাটি গেড়েছেননিচে পার্টি অফিসউপরে তার থাকার জায়গা

গােড়াই জানিয়ে দিয়েছিলেন, জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়ে ঘনঘন হাততালি কুড়ানাের রাস্তায় তিনি হাটবেন নাভােট কুড়ানাের জন্য রাশি-রাশি প্রতিশ্রুতি দেওয়ার চির চেনা রাস্তাও দীপার না-পসন্দএ কথা বলে প্রথমেই সিপিএমের প্রচার অনেকটা চুপসে দেন সন্তর্পণে ঢুকে পড়েন বাড়ির দাওয়ায়পৗেছে যান হেঁশেলেউঠােনে দাড়িয়েই গল্পচ্ছলে বাড়ির খােজখবর নেনকারও ছেলের অসুখ, কারও ভাইপাের অসুস্থতার কথা শুনে প্রচার শিকেয় তুলে চিকিসার ব্যবস্থা করতে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েনঝড়-জলেও বিরামহীন ভাবে চলে ছােটাছুটি

এটা ছিল আমজনতার মন জয়ের চাবিকাঠিপাশাপাশি ছিল দলকে একজােট করার মতাে কাজওউত্তর দিনাজপুরে যে দলের হাল গত পঞ্চায়েত ভােট অবধি ছন্নছাড়া ছিল, গােষ্ঠীদ্বেন্দ্ব ছিল জরাজীর্ণ, সেই দলকে অিক্সজেন জােগালেন নিজস্ব কায়দায়

প্রতিটি এলাকায় গিয়ে নেতা-কমর্ীদের সঙ্গে ঘরােয়া মিটিং করেছেন গ্রাম, তস্য গ্রামের ছােট মাপের নেতা-কমর্ী-সমর্থকদের নাম মনে রেখেছেন নানা সময়ে গ্রামে ঘােরাঘুরির সময়ে জনে জনে নাম ধরে ডেকে বাড়ির খােজখবর নিয়েছেন

এখানেই শেষ নয়, ছােটখাটাে কােনও কমর্ী কােথাও আক্রান্ত হলে নিজে ছুটে গিয়েছেনজনতার বিশ্বাস অর্জন তাে বটেই, কমর্রীাও ওঁর উপিস্থতিতে কতটা উদ্দীপ্ত তা ভােটের ফলই বলছেএকে িপ্রয়দারপ্রভাব, তার উপরে বৗেদির ঘরে-বাইরে সকলের মন কেড়ে নেওয়াএতেই কেল্লা ফতেউত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের ২৪টি আসনের মধ্যে ১৬টি আসন মিলেছে হেসেখেলে গত পঞ্চায়েত ভােটের প্রাক্কালে কংগ্রেসের প্রথম সারির ১৪ জন নেতা গােলমালে জড়িয়ে জেলে গিয়েছিলেনএ বার গােলমালে কাউকে জড়াতে দেননি বৗেদি

যেখানে মমতা বেন্দ্যাপাধ্যায় ভিড়ে ঠাসা সমাবেশ করেও হালে পানি পান না, সেখানে দীপা আর কী করবেনএমন যারা ভেবেছিলেন, তাদের অনেকেই এখন স্তিম্ভতজেলা সিপিএমের প্রথম সারির এক নেতা তাে বলেই ফেললেন, ‘‘বৗেদি ম্যাজিক যে এমন ভাবে আমাদের ধসিয়ে দেবে, ভাবতেও পারিনি’’ সরকারি ভাবে জেলা সিপিএম নেতৃত্ব জানাচ্ছেন, তারা ফলাফল বিেশ্লষণের পরেই যা বলার বলবেন